Wednesday, 15 August 2018

ঘুম ডাকে

রাতে হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে অজান্তেই মোবাইলে হাত চলে যায়। ডাক্তার নিষেধ করেছেন বারবার। তবুও কেমন একটা অভ্যাস এ পরিণত হয়েছে। 35 বছর বয়সেই ঘুম তাকে ছেড়ে যাচ্ছে এই ভাবনাটা মেনোপজ হওয়ার থেকেও ভয়ঙ্কর। পাশে রাখা জলের বোতল খুলে শুয়েই সে মুখে কিছুটা জল ঢালে,কিছুটা গড়িয়ে পড়ে বালিশে। ভালোই হয়।ঠান্ডা অনুভূতি টাও যদি ঘুম আনতে পারে।
আজ রাত 2টো নাগাদ ঘুম ভাঙলে সে দেখে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দূরে dsp এর ধোঁয়া রাতের আকাশ কে লালচে করে দিয়েছে। এত বড় কারখানার আলো, ফ্লাইওভার এর লাম্প পোষ্ট , nh2 এর রাত জাগা ট্রাকের আলো।সব আলো অনেক অনেক দূর থেকে জ্বলতে থাকে। বেড রুমের অন্ধকারে আলো গুলো আরো উজ্জ্বল বলে মনে হয়।
ঘুমের ওষুধ সে খায় না। ডাক্তার দিতে চেয়েছিলেন।ও না করে দিয়েছে। ওষুধ খেয়ে ঘুম ডেকে আনার মধ্যে যেন কোনো গৌরব নেই। বরং এখন যা পরিস্থিতি তাতে ওর কাছে এই আধ ঘুম জাগরণ আস্তে2 গা সওয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন রাতের বেলা দুর্গাপুর শহর খোলস ছাড়ে। ঘুমের আড়ালে ঢাকা পরে সে শহর এর তলায় লুকিয়ে থাকা আরো অনেক রূপ তার ফুটে বেরোয়। লালচে অন্ধকার,হলদে আলো আর রাস্তায় নতুন লাগানো led chain ।একেক দিকে একেক রকম আলোর চরিত্র রা ঠিকরে পড়ছে রাস্তায়.।কিন্তু ফ্লাই ওভার এর নিচে র জায়গাটা আলো নেই বলে এত উঁচু জায়গা থেকে দেখা যায়না। মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুক খুলে সে একবার নোটিফিকেশন বার চেক করে।কিছুই নেই। হোয়াটস এপ এ কিছু গ্রুপ মেসেজ ঢোকে। সে খোলে না। বরং মোবাইল পাশে সরিয়ে জানালা দিয়ে আলোর বিন্দু গুলি দেখতে থাকে। একসময় আকাশ কালো থেকে ধূসর হয়। একটু একটু করে ধূসর আলো জেগে ওঠে ,হাউসিং এ র গাছে পাখি র ঘুম ভাঙা ডাকে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে।

কাল থেকে বিছানা টা সে জানালার ঠিক পাশে সরিয়ে এনেছে। রাতের আলো শেষ হলে পাখির ঘুম ভাঙলে তার রাত শুরু হয়। মোবাইলে র পাখির ডাক এলার্ম টার আর দরকার হচ্ছেনা। ভোরের ক্যানভাস এ দিনের প্রথম ছবি সে এঁকে চলে সুপ্তির টানে। বুঝিবা ঈষৎ হাসি ঝুলে থাকে আধ খোলা ঠোঁটের ফাঁকে।

No comments:

Post a Comment

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...