Wednesday, 15 August 2018

পড়ে পাওয়া 3

ইনভিজিলাসন ডিউটি দিচ্ছি। এদিক ওদিক ক্লাস এই ঘুরছি।যাকে বলে চূড়ান্ত একঘেয়েমি। ঘুম যাতে না আসে তার জন্য হাঁটা হাঁটি চলছে। আমার আজ যে ঘরে গার্ড ছিল সেই ঘরে সবাই ছাত্রী।অতীব শান্ত মেয়েরা। বাক্য খরচ করতে হয়নি। বারবার বাথরুম যাওয়ার হিড়িক ও নেই। এমনি ভালোই লাগে।
যাইহোক বোরিং ব্যাপারটা তো কোনো মতেই যাওয়ার নয়। হঠাৎ চোখ পড়ল ক্লাসের সামনে বারান্দার কার্নিশে।ভিতরের দিকে। এক জোড়া কপত কপতি। ভাবলাম প্রেমালাপ।তা ভালো।এই বসন্তে পাখিদের প্রেম দেখে মনে আনন্দ লাগে বৈকি বিশেষত যখন আমার প্রিয় মানুষটি নিজের কর্মস্থলে আমার থেকে 450 km দূরে হাত পুড়িয়ে রান্না করে খাচ্ছেন। ভাবলেও কষ্ট।বিরহ ,কষ্ট, চোরা ব্যাথা সব মিলিয়ে মিশিয়ে মাঝে2 চোখের কোন ভিজিয়ে দেয়।
একটু বেশি আবেগ প্রবন হয়ে পড়েছি। ফিরে যাই কপোত কপতি র কথায়। 1মিনিট পর পর পুরুষ বিচিত্র গ্রীব উড়ে যায়। ব্যাপারটা কি হচ্ছে আরেকটু দেখলাম। নাহ প্রেম নয়। তার থেকেও কিছু বেশি ।দায়িত্ব বোধ। প্রেমিক থেকে বাবা হবার এই মধ্য বর্তি পর্যায়ে সে গড়ে নিচ্ছে নতুন বাসা। তার স্ত্রী সেই কাঠকুটো পাতা ঘাস পরম যত্নে সাজাচ্ছে। বেশিক্ষন দেখতেও পারছিনা। গার্ড দেবার মাঝে একটু একটু। আমার সাথে যে sir ছিলেন উনি এসে আমাকে রিলিফ দিলেন। আমিও এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। মন দিয়ে দেখলাম পায়রা দম্পতির বাসা বাঁধা ভবিষ্যতের জন্যে।

অপেক্ষা করছিল আরো বিস্ময়। পুরুষ পায়রা টি ওই কাঠের টুকরো পাতা বয়ে আনার ফাঁকে দু একবার ছুঁয়ে দিছিলো ঠোঁট তার স্ত্রীর।আবার উড়ে যাওয়া, স্ত্রীর বাসা বাঁধা...

দাম্পত্য প্রেম বোধ করি এভাবেই স্বপ্নের কাছে নাড়া বেঁধে এগোয়। অথবা আগামীর মুখ পৃথিবীকে দিয়ে যাবে তার দায় বদ্ধতায়।

No comments:

Post a Comment

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...