Wednesday, 15 August 2018

পড়ে পাওয়া 4

বৃষ্টির জমা জলে ঝপাং ঝপাং।
 গরমে ঘামাচিরা মেখে নিতো নাইসিল।
পাউডার শেষ হলে কৌটো জমানো খুচরো ,
তার মাঝে একটা সিঁদুর মাখা ষোলোআনা।
কতটা মূল্যবান ছিল ধুলোমাখার বেলা।
অবেলায় নেগেটিভ ফিল্ম এ রোদের ফিল্টার।
 সাদা টেপে ছোট ছোট নকশি ফুল তোলা বাগান।
কল্পনাতে কত শত অভিযান।

হারিয়েছি অনেক যার সবটাই ভালো।
আমার শৈশব তুমি হাত ধরে চলো।

চল্লিশ পেরিয়ে



এখন আমি চল্লিশ পেরোনো।
এখন আয়নায় বেশি করে মুখ দেখি।
না না চোখের তলায় কোনো রেখা আসতে দিচ্ছিনা।
চকচকে মুখে ঠিকরোয় কোহিনূর দ্যুতি।

আমি চল্লিশ পেরিয়ে শুনেছি আবার বছর ষোলোর
ডাক। না পাওয়া ইচ্ছে গুলো নিচ্ছি জড়িয়ে,
আগুন ঝরানো বাঁক।
 হিংসুটে আছে কিছু কত কথাই যে বলে।
পাত্তা দিই নি যদিও কখনো
ওগুলো যে সব মিছে।

আমি নিজেকে সাজাচ্ছি আবার, দৌড়াতে হবে আরও।
নিজের ছায়া কে কেন যে তবুও দেখায় শুধুই কালো।
অবয়বে ভাসে আত্মজা, চোখে অবুঝ গ্লানি।

প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আমার ছায়া
অথবা আমার সাথে আমি।

Meaningless

Sometimes life sucks...And compels one to tread on the memories of  past. The past that has become the scar- healed with a mark. Amidst smile and love, it peeps and says
"I ve not left you ,and will never."
Memories why are you so cruel.
Is it really a bless or curse for humans
To have the capacity to remember.
If i were left unconscious ,erased of memories, reprogrammed.

Come on mind don't be so pathetically ridiculous!

পড়ে পাওয়া 3

ইনভিজিলাসন ডিউটি দিচ্ছি। এদিক ওদিক ক্লাস এই ঘুরছি।যাকে বলে চূড়ান্ত একঘেয়েমি। ঘুম যাতে না আসে তার জন্য হাঁটা হাঁটি চলছে। আমার আজ যে ঘরে গার্ড ছিল সেই ঘরে সবাই ছাত্রী।অতীব শান্ত মেয়েরা। বাক্য খরচ করতে হয়নি। বারবার বাথরুম যাওয়ার হিড়িক ও নেই। এমনি ভালোই লাগে।
যাইহোক বোরিং ব্যাপারটা তো কোনো মতেই যাওয়ার নয়। হঠাৎ চোখ পড়ল ক্লাসের সামনে বারান্দার কার্নিশে।ভিতরের দিকে। এক জোড়া কপত কপতি। ভাবলাম প্রেমালাপ।তা ভালো।এই বসন্তে পাখিদের প্রেম দেখে মনে আনন্দ লাগে বৈকি বিশেষত যখন আমার প্রিয় মানুষটি নিজের কর্মস্থলে আমার থেকে 450 km দূরে হাত পুড়িয়ে রান্না করে খাচ্ছেন। ভাবলেও কষ্ট।বিরহ ,কষ্ট, চোরা ব্যাথা সব মিলিয়ে মিশিয়ে মাঝে2 চোখের কোন ভিজিয়ে দেয়।
একটু বেশি আবেগ প্রবন হয়ে পড়েছি। ফিরে যাই কপোত কপতি র কথায়। 1মিনিট পর পর পুরুষ বিচিত্র গ্রীব উড়ে যায়। ব্যাপারটা কি হচ্ছে আরেকটু দেখলাম। নাহ প্রেম নয়। তার থেকেও কিছু বেশি ।দায়িত্ব বোধ। প্রেমিক থেকে বাবা হবার এই মধ্য বর্তি পর্যায়ে সে গড়ে নিচ্ছে নতুন বাসা। তার স্ত্রী সেই কাঠকুটো পাতা ঘাস পরম যত্নে সাজাচ্ছে। বেশিক্ষন দেখতেও পারছিনা। গার্ড দেবার মাঝে একটু একটু। আমার সাথে যে sir ছিলেন উনি এসে আমাকে রিলিফ দিলেন। আমিও এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। মন দিয়ে দেখলাম পায়রা দম্পতির বাসা বাঁধা ভবিষ্যতের জন্যে।

অপেক্ষা করছিল আরো বিস্ময়। পুরুষ পায়রা টি ওই কাঠের টুকরো পাতা বয়ে আনার ফাঁকে দু একবার ছুঁয়ে দিছিলো ঠোঁট তার স্ত্রীর।আবার উড়ে যাওয়া, স্ত্রীর বাসা বাঁধা...

দাম্পত্য প্রেম বোধ করি এভাবেই স্বপ্নের কাছে নাড়া বেঁধে এগোয়। অথবা আগামীর মুখ পৃথিবীকে দিয়ে যাবে তার দায় বদ্ধতায়।

পড়ে পাওয়া 2

প্রতি রবিবার 3 বছরের ছোট্ট ছেলেটা বাবার সাথে যেত মাংসের দোকানে। প্রায় 4 বছর ধরে গিয়েছিল আর শিখেছিল কোথায় আঘাত করলে মুরগি খুব বেশি ছটফট না করে চোখ বন্ধ করে চিকেন হয়ে যায়।

ছেলেটি আপাতত জেলে।খুনের বিভৎস্যতা খবরের পাতায়।

আমরা কেউ ওদের নই



প্রতিবাদ করতে পেরেছিল সুজেট।
শেষ চেষ্টা করেছিল নির্ভয়া
আটকাতে ক্ষুধার্ত হাত।
না,আসিফা জানতো না প্রতিবাদ
বা প্রতিরোধ।
নিতান্ত কচি আঙ্গুল পুতুল ছুঁয়ে দেখেছিল।
পুরুষাঙ্গ নয়।

গলা মোম হাতে পড়লে মোমবাতি মিছিলে
হাত কাঁপে। আলো সরে যায়।
মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন থেকে
দখল করা যায় কাগজের প্রথম পাতা।
তারপর তো কত নদী ,নালা পেরিয়ে
বিচার থমকায় নাবালকের কোঠায়।

তখন ভদ্র মানুষ হঠাৎ করে তিন বাঁদর
হয়ে ওঠে। মানবাধিকার টাধিকার কি
সব যেন গজিয়ে ওঠে ঝাঁকিয়ে দেয় বিবেকের
ঝুঁটি। মৃত্যু নয়,বাঁচার অধিকার যে সবারই।

আসিফা শেখেনি বাঁচা কাকে বলে।বা লড়াই।
আমরা সুশীলরা যারা একটু ইশ আহারে ওমা
মেয়েটা আমারই মেয়ের বয়সী বলে জিভ চুকচুক করি
হয়তো মিছিলে হাঁটি কিসের তাড়নায় সেটাও
তো স্পষ্ট নয়।

আমরা নাকি মানুষ! মানবিক হতে হয়।
হ্যাঁ এটা ঠিক মানুষের মতো দেখতে
বটেই। আসিফা মানুষ ছিলোনা।
মানবাধিকার ওর জন্য নয়।

দৌড়ানো

একশো বছর হাঁটার পর ক্লান্ত নই।
দুহাতে রেখেছি বন্ধুতা মুঠোভর্তি।
শ্রমন এর ঝুলি তে যা যা থাকে
দিনযাপন এর রসদ-বৈভবে নয়।
শরীরে জমেছে ক্লেদ,মনে ক্রোধের স্ফুরন।
হাঁটবো তবুও,দিন শেষে প্রজন্ম ফুরিয়ে
গিয়ে নতুন জন্মের সলতে তে ছুঁয়ে দেবে-
শেষ অথবা শুরু মাঝে থাক বাঁচার আগুন।

পড়ে পাওয়া

মাকে নিয়ে আজ এসেছিলাম মিশন হসপিটাল এ।জরুরি কিছু টেস্ট ছিল ইকো ecg ইত্যাদি। মায়ের সিরিয়াল নম্বর আসলে মা গেল ভেতরে। আমি বসে আছি। যথারীতি চোখ ঘুরছে এদিক ওদিক। চোখ গেল এক দম্পতির দিকে। পাকা চুলে সিঁদুর পরা জেঠিমা প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এলেন। পিছনে ওনার স্বামী। ভাবলাম এই জেঠিমার নিশ্চই হাঁটুর ব্যাথা বা নির্ঘাত আর্থ্রাইটিস এর চিকিৎসার জন্য এসেছেন। ওনার হাত কাঁধ ছুঁয়ে ছিল জেঠুর হাত।
কিছুক্ষন পর আমার সন্দেহ তা ভুল প্রমাণিত হলো।না এক্ষেত্রে জ্যেঠিমা নয়, জ্যেঠুর সমস্যা। পক্ককেশ মানুষটি যথেষ্ট দুর্বল। এক জায়গায় বসে পড়লেন।আর ওনার সহধর্মিনী এক এক করে সব ফর্মালিটি গুলো সারছিলেন। সব সেরে এসে একটা হাত স্বামীর কাঁধে রেখে বললেন "বসতে হবে, দেরি হবে একটু"।সেই জেঠুর দৃষ্টি তখন মেঝেতে।কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে বুঝলাম। একবার শুধু তাকালেন ,চোখে ক্লান্তি বা কষ্টের রেখা বলিরেখার ভাঁজে ফুটে উঠেছে।
জেঠিমা জল এর বোতল খুলে কিছুটা ওনার মুখে ঢেলে দিলেন।
সহধর্মিনী র সাথে অপেক্ষায়।দীর্ঘ নয় যদিও, তবুও বয়সের কাছে সেটাই বেশ পরিশ্রম এর ব্যাপার।
আমার মা বাবা কেও রোজ দেখি। সংসারের খুঁটি নাটি নিয়ে তর্ক বিতর্ক এর মাঝে একটা আগলে রাখার ভাব। দুজনের দুরকম।
আমি চেষ্টা করি পাশে থাকার। কিন্তু এই দম্পতি
বারবার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টি তে

সাহচর্য, নাকি শুধুই পাশে থাকা অথবা বহু বছরের নির্ভরতার আশ্বাস।

অবোধ্য



পাড়ার মোড়ে বিড়ি খাওয়া ছেলের দলের দিকে তাকিয়ে 3 বছরের বাচ্ছা ভাবে -মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোনো কি সহজ।

যে মেয়েটি সদ্য সাইকেল চালানো শিখেছে তার নয় বছরের স্কার্ট হাওয়ায় উড়লেও প্রথম গতির কাছে তা অগোচর।

বছর দশের কিশোরী তেরোর কিশোর র দিকে একটু বেশি বেশি করে তাকায় ।কেন জানিনা তাকাতে ভালো লাগে তাই।

কিছু কথা গোপনে থেকে বড় করে দেয় আঠেরোর জ্বালাময়ী ঠোঁট।

ত্রিশ পেরিয়ে এসে সাংসারিক বধূটি এখনো সমুদ্র পারি দিতে চায় নতুন বন্দরের লাইট হাউসের টানে।

ষাট পেরোনো চোখ খোঁজে দশ তেরোর  গণিতের পুরোনো মলাট-ভাঁজধরা ঘুনের গন্ধ জড়ানো ইতিহাস।

অবোধ্য সব যাচ্ছেতাই ভীষণ ভালোলাগা অথবা ভালোবাসার হিসাব।

ছবি কবিতা রা

ছবি কবিতা 1
তোমার রঙে আমার পৃথিবী হলো রঙিন।
রাঙিয়ে দিয়ে যেয়ো বারবার।
মনের গভীরে রয়েছে যে ক্ষত
তাকে প্রলেপ দেয় তোমার ছোঁয়া।
তুমি এরকমই থাকো আমায় ঘিরে।
তোমার চোখে আমার বেঁচে থাকা।
ছবি কবিতা 2
আরো একবার পাশাপাশি।
বহুদিন পর।
অচেনা পথে ভয় নেই ।
চেনা আঙুল ছুঁয়ে থাক মন।
ছবি কবিতা 3
এভাবেই যদি তরঙ্গের দোলায় ,
ভেসে যেতাম বহু দূরে
থাকতে কি তুমি সেথায়,
আগলে নিয়ে বাহুডোরে?
ছবি কবিতা 4
এখনো বিকেল আসে রোজ।
এখনো রোদ মাখি গালে।
চোখ দুটো দেখে চলে রাস্তার বাঁক।
এখনই পাবো জানি দেখা তোমার আভাস।
নীল তুমি ভালোবাসো,আমি তাই লাল।
দূরের আকাশে মেঘ বেগুনি রং খোঁজে,
ঠোঁটে ভাসে নিঃশব্দ বাতাস।
ছবি কবিতা 5
আমার চোখ খোঁজে তোমার পথ।
একটু অবসরে,আমার চিন্তনে ভেসে ওঠো বারবার।
তোমার ফেলে রাখা মুহূর্তের শব্দরা ঘিরে থাকে।
আমার একলা ছায়াপথ ।

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...