Wednesday, 15 August 2018

পড়ে পাওয়া 2

প্রতি রবিবার 3 বছরের ছোট্ট ছেলেটা বাবার সাথে যেত মাংসের দোকানে। প্রায় 4 বছর ধরে গিয়েছিল আর শিখেছিল কোথায় আঘাত করলে মুরগি খুব বেশি ছটফট না করে চোখ বন্ধ করে চিকেন হয়ে যায়।

ছেলেটি আপাতত জেলে।খুনের বিভৎস্যতা খবরের পাতায়।

আমরা কেউ ওদের নই



প্রতিবাদ করতে পেরেছিল সুজেট।
শেষ চেষ্টা করেছিল নির্ভয়া
আটকাতে ক্ষুধার্ত হাত।
না,আসিফা জানতো না প্রতিবাদ
বা প্রতিরোধ।
নিতান্ত কচি আঙ্গুল পুতুল ছুঁয়ে দেখেছিল।
পুরুষাঙ্গ নয়।

গলা মোম হাতে পড়লে মোমবাতি মিছিলে
হাত কাঁপে। আলো সরে যায়।
মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন থেকে
দখল করা যায় কাগজের প্রথম পাতা।
তারপর তো কত নদী ,নালা পেরিয়ে
বিচার থমকায় নাবালকের কোঠায়।

তখন ভদ্র মানুষ হঠাৎ করে তিন বাঁদর
হয়ে ওঠে। মানবাধিকার টাধিকার কি
সব যেন গজিয়ে ওঠে ঝাঁকিয়ে দেয় বিবেকের
ঝুঁটি। মৃত্যু নয়,বাঁচার অধিকার যে সবারই।

আসিফা শেখেনি বাঁচা কাকে বলে।বা লড়াই।
আমরা সুশীলরা যারা একটু ইশ আহারে ওমা
মেয়েটা আমারই মেয়ের বয়সী বলে জিভ চুকচুক করি
হয়তো মিছিলে হাঁটি কিসের তাড়নায় সেটাও
তো স্পষ্ট নয়।

আমরা নাকি মানুষ! মানবিক হতে হয়।
হ্যাঁ এটা ঠিক মানুষের মতো দেখতে
বটেই। আসিফা মানুষ ছিলোনা।
মানবাধিকার ওর জন্য নয়।

দৌড়ানো

একশো বছর হাঁটার পর ক্লান্ত নই।
দুহাতে রেখেছি বন্ধুতা মুঠোভর্তি।
শ্রমন এর ঝুলি তে যা যা থাকে
দিনযাপন এর রসদ-বৈভবে নয়।
শরীরে জমেছে ক্লেদ,মনে ক্রোধের স্ফুরন।
হাঁটবো তবুও,দিন শেষে প্রজন্ম ফুরিয়ে
গিয়ে নতুন জন্মের সলতে তে ছুঁয়ে দেবে-
শেষ অথবা শুরু মাঝে থাক বাঁচার আগুন।

পড়ে পাওয়া

মাকে নিয়ে আজ এসেছিলাম মিশন হসপিটাল এ।জরুরি কিছু টেস্ট ছিল ইকো ecg ইত্যাদি। মায়ের সিরিয়াল নম্বর আসলে মা গেল ভেতরে। আমি বসে আছি। যথারীতি চোখ ঘুরছে এদিক ওদিক। চোখ গেল এক দম্পতির দিকে। পাকা চুলে সিঁদুর পরা জেঠিমা প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এলেন। পিছনে ওনার স্বামী। ভাবলাম এই জেঠিমার নিশ্চই হাঁটুর ব্যাথা বা নির্ঘাত আর্থ্রাইটিস এর চিকিৎসার জন্য এসেছেন। ওনার হাত কাঁধ ছুঁয়ে ছিল জেঠুর হাত।
কিছুক্ষন পর আমার সন্দেহ তা ভুল প্রমাণিত হলো।না এক্ষেত্রে জ্যেঠিমা নয়, জ্যেঠুর সমস্যা। পক্ককেশ মানুষটি যথেষ্ট দুর্বল। এক জায়গায় বসে পড়লেন।আর ওনার সহধর্মিনী এক এক করে সব ফর্মালিটি গুলো সারছিলেন। সব সেরে এসে একটা হাত স্বামীর কাঁধে রেখে বললেন "বসতে হবে, দেরি হবে একটু"।সেই জেঠুর দৃষ্টি তখন মেঝেতে।কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে বুঝলাম। একবার শুধু তাকালেন ,চোখে ক্লান্তি বা কষ্টের রেখা বলিরেখার ভাঁজে ফুটে উঠেছে।
জেঠিমা জল এর বোতল খুলে কিছুটা ওনার মুখে ঢেলে দিলেন।
সহধর্মিনী র সাথে অপেক্ষায়।দীর্ঘ নয় যদিও, তবুও বয়সের কাছে সেটাই বেশ পরিশ্রম এর ব্যাপার।
আমার মা বাবা কেও রোজ দেখি। সংসারের খুঁটি নাটি নিয়ে তর্ক বিতর্ক এর মাঝে একটা আগলে রাখার ভাব। দুজনের দুরকম।
আমি চেষ্টা করি পাশে থাকার। কিন্তু এই দম্পতি
বারবার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টি তে

সাহচর্য, নাকি শুধুই পাশে থাকা অথবা বহু বছরের নির্ভরতার আশ্বাস।

অবোধ্য



পাড়ার মোড়ে বিড়ি খাওয়া ছেলের দলের দিকে তাকিয়ে 3 বছরের বাচ্ছা ভাবে -মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোনো কি সহজ।

যে মেয়েটি সদ্য সাইকেল চালানো শিখেছে তার নয় বছরের স্কার্ট হাওয়ায় উড়লেও প্রথম গতির কাছে তা অগোচর।

বছর দশের কিশোরী তেরোর কিশোর র দিকে একটু বেশি বেশি করে তাকায় ।কেন জানিনা তাকাতে ভালো লাগে তাই।

কিছু কথা গোপনে থেকে বড় করে দেয় আঠেরোর জ্বালাময়ী ঠোঁট।

ত্রিশ পেরিয়ে এসে সাংসারিক বধূটি এখনো সমুদ্র পারি দিতে চায় নতুন বন্দরের লাইট হাউসের টানে।

ষাট পেরোনো চোখ খোঁজে দশ তেরোর  গণিতের পুরোনো মলাট-ভাঁজধরা ঘুনের গন্ধ জড়ানো ইতিহাস।

অবোধ্য সব যাচ্ছেতাই ভীষণ ভালোলাগা অথবা ভালোবাসার হিসাব।

ছবি কবিতা রা

ছবি কবিতা 1
তোমার রঙে আমার পৃথিবী হলো রঙিন।
রাঙিয়ে দিয়ে যেয়ো বারবার।
মনের গভীরে রয়েছে যে ক্ষত
তাকে প্রলেপ দেয় তোমার ছোঁয়া।
তুমি এরকমই থাকো আমায় ঘিরে।
তোমার চোখে আমার বেঁচে থাকা।
ছবি কবিতা 2
আরো একবার পাশাপাশি।
বহুদিন পর।
অচেনা পথে ভয় নেই ।
চেনা আঙুল ছুঁয়ে থাক মন।
ছবি কবিতা 3
এভাবেই যদি তরঙ্গের দোলায় ,
ভেসে যেতাম বহু দূরে
থাকতে কি তুমি সেথায়,
আগলে নিয়ে বাহুডোরে?
ছবি কবিতা 4
এখনো বিকেল আসে রোজ।
এখনো রোদ মাখি গালে।
চোখ দুটো দেখে চলে রাস্তার বাঁক।
এখনই পাবো জানি দেখা তোমার আভাস।
নীল তুমি ভালোবাসো,আমি তাই লাল।
দূরের আকাশে মেঘ বেগুনি রং খোঁজে,
ঠোঁটে ভাসে নিঃশব্দ বাতাস।
ছবি কবিতা 5
আমার চোখ খোঁজে তোমার পথ।
একটু অবসরে,আমার চিন্তনে ভেসে ওঠো বারবার।
তোমার ফেলে রাখা মুহূর্তের শব্দরা ঘিরে থাকে।
আমার একলা ছায়াপথ ।

ভরা বর্ষায়

পায়ে লাগা জল ছিটিয়ে ঘাসে মুছে নি বরং।
স্নানের বিন্দুরা অসম জলকণা।
বৃষ্টি স্নানের রেষারেষি শেষে ভিজে ঠোঁটের আবদার।
দেখো পড়ন্ত বিকেলে এভাবেই ভালোবাসবো।
ঠিক যেন সেই তিন প্রহর পেরোনো তেরছা চোখ
যেভাবে ধুয়ে নেয় সব অসমান ঝগড়া ঝাটি।
আমাদের বিকেল ,অঙ্কুরোদগমের
আশায় ,নখের খোঁচায় তোলা এক ঝাপটা ভিজেমাটি।

প্রতিশ্রুতি

বাস থেকে নামতে গিয়ে বাঁ পা টা একটু হোঁচট খেলো। সামলে নিলো সে। আজ সে স্কুটি নিয়ে আসেনি।কারণ ডাক্তার দেখানো। বেশ কিছুদিন ধরেই চিকিৎসা চলছে তার।এক গাদা হরমোন ওষুধ খাওয়ার নীট ফল চুল ওঠা, ঘুম ভাব হঠাৎ করে মাথা ঘুরে যাওয়া। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মা না হতে পেরে অগত্যা চিকিৎসকের শরণাপন্ন। ব্যাপারটা তার বা তার স্বামীর কাছে ততটা depressive নয় ,যতটা ভাবা হয়। তবুও সে কষ্টকর চিকিৎসা গুলো কেন যে নিচ্ছে তার সঠিক কারণ সে নিজেই বোঝেনা।
নার্সিং হোমের চেম্বার এ ডাক্তার এর জন্য অপেক্ষা।কাজের জায়গা থেকে ছুটির কিছুটা আগেই সে বেরিয়ে এসেছে। নার্সিংহোমের সামনে এসে তার চোখে পড়ে জটলা। একটা ট্রাক দাঁড়ানো। সঙ্গে2 সে বুঝে নেই যে কারুর আয়ুর রেশন কার্ড এর বরাদ্দ ফুরিয়েছে। ট্রাকে বডি তোলা হয়েছে , বেরিয়ে যাবে । ট্রাক স্টার্ট হতেই কেউ হরি ধ্বনি শুরু করে। কেউ একজন ছিটিয়ে দেয় সাদা খই। উড়ে উড়ে যায়।রেখে যাওয়া ,ফেলে যাওয়া পথের শেষ দান খেয়ে বাঁচে কাকের জীবন।

সে দেখে চলে যাওয়ার পথ, কাকদের উল্লাস , সমবেত হরি ধ্বনি। বুঝিবা মৃত্যুর ওপর ভর করেই জীবন দাঁড়িয়ে থাকে, বেঁচে থাকে ক্ষুধার আকুতি। প্রতিটা খই এর দানা মৃতের তরফে বাঁচার প্রতিশ্রুতি।

ফুলশয্যা

ফুলশয্যা

সপ্তম বিবাহবার্ষিকী। ধরিত্রী এলবাম নামিয়ে বিয়ের ছবি গুলো দেখছিল। প্রতিবার দেখে। কৃষ্ণ এখনো ফেরেনি কাজ থেকে। একটু দেরি হবে। রাতে একসাথে ডিনার করবে বলে আগে থেকেই টেবিল বুক করেছে।
এলবাম টা খুললেই কত ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমান হয়ে ওঠে। সাত পাক, অগ্নিসাক্ষী, সিঁদুর দান থেকে ফুল শয্যার খাটের ছবি শুধু দুজনের। এখনো তারা দু জন তিন জন হয়নি। ফ্রেমে বন্দি হয়নি কোনো নতুন নরম মুখ।
প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকী তে কৃষ্ণ নিয়ম করে ওকে সারপ্রাইস দেয়। সবসময় ওর চেষ্টা ও ভালো থাকুক।হাসি মুখে থাকুক। একের পর এক চেষ্টা যখন ধরিত্রী কে শক্ত করে তোলে, ওর হাসি মুখ ফেটে চৌচির হয়, কৃষ্ণ কিন্তু ঠিক বুঝে যায় কি ভাবে ভিজিয়ে দিতে হয় স্নেহের পরশে। অনেক খানি নিশ্চিন্ত, তবুও কি শান্তি মেলে? একবার ঘড়ির দিকে সে তাকায়।হ্যাঁ তাদের বিয়েটা ছিল গোধূলি লগ্নে।

ডিনার শেষে ঘরে ফিরে এলো ওরা।নাহ সারপ্রাইস কৃষ্ণ এখনো দিলোনা। মনের কোণে একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায়।তবে কি কৃষ্ণ...নাহ, কি জানি। ভেবে ও চুপ করে যায়। ঘুম না আসলেও নিয়ম মতো বিছানায় ও যায়। লাইট নিভিয়ে দেয়।কৃষ্ণ ড্রয়িং রুমে কি সব কাগজ নিয়ে বসেছে। ধরিত্রী জানে ওগুলো অফিসের দরকারি কাগজ। মনে হয় খুব দরকারি।না হলে সচরাচর ও অফিসের কাগজ বাড়িতে নিয়ে আসেনা।

ঘড়ির কাঁটা প্রায় পনে 12টা। কৃষ্ণ এসে বেডরুমের লাইট জ্বালায়। একটু বিরক্ত হয় ধরিত্রী। কিন্তু চুপ করে থাকে। কৃষ্ণ এসে গালে আলতো চুমু দেয় ওর। চোখ ঢেকে দিয়ে বলে সারপ্রাইস। চোখ খুললে দেখে একটা ফর্ম। একটা adoption agency র। কিছুটা দ্বিধা নিয়ে ধরিত্রী অস্ফুটে বলে নিজের তো আর নয়। কৃষ্ণ হোহো করে হাসে। বলে 'নিয়ম মতো কাগজ বানালে সেই baby টাও তোমার নিজের।'কিন্তু' 'না কোনো কিন্তু নয়, আমিই বা তোমার নিজের কে ছিলাম, রেজিস্ট্রি র কাগজ টা তে সাইন করেছিলাম বলেই না তোমার বাবা নিশ্চিন্তে আমার হাতে তোমার হাত টা তুলে দিয়েছিল।পাগল একটা'।
কৃষ্ণ এই কথা বলে ওকে জড়িয়ে ধরে। ও কেঁপে ওঠে। কি সহজে কৃষ্ণ বুঝিয়ে দেয় আপন বলে কেউ হয়না,আপন করে নিতে হয়, নিতে জানতে হয়। এই জন্যই সে সখা, স্বামী বা তার ও বেশি কিছু মনে হয়।

জীবনের নিশ্চিন্ত ফুলশয্যা বোধ হয় তার জীবনে আজই আলিঙ্গন করে যায়।

Thursday, 1 February 2018

টিশার্ট

এক এক টা ভালোবাসা  রোদে মেলে দি।
ক্লিপ আটকে দি, এলোমেলো হাওয়া যাতে উড়িয়ে না নেয়।
ভেসে থাকে হাওয়ায়, এদিক ওদিক ।
বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে শুকনো কাপড় তুলে নিয়ে আসার সময় দেখি পড়ন্ত রোদে তোমার
টিশার্ট শুকিয়েছে।তবে কলারের কাছে আধ ভেজা।
সেখানে এখনো মিশে সাবানের গন্ধের সাথে ডিওডোরেন্ট।
তখন হয়তো তুমি ট্রেনে, ঘুম চোখে নেমে আসে বিকেলের ছায়া।
ক্লান্ত শরীর কে টেনে নিয়ে যাও ল্যাব এ।
বিশ্বাস করো ওই ভেজা গন্ধের আদরে কেটে যায়
ছটা দিন।
আলমারি থেকে জামাকাপড় নামাই তোমার। অনেক গুলো রান্নার মাঝে খুব তাড়াতাড়ি।
ধোয়া কাপড়ে আবার মিশবে তোমার ঘাম, ডিও।

যা রেখে যাও তুমি প্রতিবার ।
আমাকে যা প্রেমিকা করে রাখে তোমার অপেক্ষার।

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...