Saturday, 20 December 2014

টুকরো কথা

রোজ শনিবার এর মতই আজ ফিরছিলাম আপ জম্মু ত্বাই  এক্সপ্রেস ট্রেন এ। রিসার্ভড কম্পার্টমেন্ট এর একজনের সিট এ বসেছি। দিব্বি ভালো জায়গা, জানালার পাশে। ঘুম ঘুম আসছে।সামনে বসা অল্পবয়সী যুবক , এক ঝলক দেখেই বুঝেছি সামরিক বাহিনীর লোক। যাইহোক যথেষ্ট ভদ্র ব্যবহার। এর মধ্যে আমার তো অভ্যাস মত হালকা ঘুম আসছে। হঠাত দেখি ওয়াইন এর গন্ধ।চোখ খুলে দেখি সেই যুবক যথা রীতি পান এ ব্যস্ত। অদ্ভুত লাগলো , খারাপ ভাবলেও ভ্রুক্ষেপ করলাম না। কারণ তার সিট এই আমি বসে আছি। কে ছাড়তে চায় ওই আরামের জায়গা। যাকগে আমার তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না. উচ্ছনে যাওয়া ছেলে পুলের দল  সব।
ইতিমধ্যে ট্রেন পানাগড় চলে এসেছে। যুবক তির মোবাইল এ হঠাত ফোন , যা আঁচ করলাম তাতে বুঝলাম মা ফোন করে কাঁদছে , এদিকে ছেলের চোখেও জল।  আমি ভাভ্লাম বাহ বেশ ভালো melodrama .
ফোন এ কথা বলা শেষ করার পর হঠাত সেই  যুবক টি হিন্দি তে আমাকে বললো  -"দিদি আপ বুরা নাহি মান রাহী হ্যায় তো , ময়ান  পি রহা হু। " আমি তো একটু চমকালাম এ বলে কি।  মুখে বললাম "নাহি জি, আপকি ফিয়াক্র কি কি বাত নাহি ".. হঠাত করে দেখলাম ছেলেটার চোখে জল।  আর্মি তে ৮ বছর রয়েছে , ঘর বাড়ি ছেড়ে। ১মাসের ছুটি শেষ. আবার কাজের জায়গায় ফেরা। এই দিন তা নাকি তার কাছে অসম্ভভ কষ্টের।মা বাবা কে ছেড়ে যাওয়া। ফ্যামিলি কে ছেড়ে যাওয়া। নিজেই বলে ফেল্লো  ফোর্স এ যত আত্মহত্যা র ঘটনা ঘটে প্রায় সবটাই  এই frustration  থেকে।
স্কুল এ জব করি জেনে বললো  "লাকি হো  আপ , পরিবার কে সাথ ওআক্ত বিতাতি হো ".

শেষে নামার সময় বললো  "দিদি আগার আপকো বুরা লাগা তো ময়ান মাফি মান্গ্তা  হু ".তখন পরিবার ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট চোখে।
কথায় কথায় জানালো ফেব্রুয়ারী তে ওর বিয়ে।  ওর জীবন ভালো কাটুক।

এই দীর্ঘ্য ৮ বছর ট্রেন যাত্রার জীবনে আরো কিছু নতুন অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হলো।

 এরা আছে বলেই আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যেতে পারি।
 বিচিত্র জীবন , নানা ঘটনা আঁচর ফেলে যায়। ..
কষ্টকর হলেও জীবনের নানা বাঁক  গুলো কে ছুঁয়ে যায় এই ট্রেন। লাইন এর প্রতি টা  বাঁক  এর মতই।

No comments:

Post a Comment

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...