যে পথে মিছিল হাঁটে
পতাকায় মুড়ে।
খানা খন্দ ফোঁকড় যা আছে
থাকুক বেঁচে বেড়ে।
প্রতিশ্রুতি প্রতিজ্ঞা নয়।
থাকে বোঝার ভুল।
আশা কেবল ফাঁকি
শুধু দুঃখের মূল।
সমাধানে সব শেষ
সমস্যায় বাঁচা।
জীবনে গোল খেলে
অংকে বড়ো কাঁচা।
তর্ক বিতর্কে জমে
সন্ধ্যা আসর।
নেপোয় মারে দই
ফুরালে ভোট বাসর।
Wednesday, 26 July 2017
ত্রুটি মার্জনীয়
Friday, 7 July 2017
মেয়েটি
যে মেয়েটি সাজে, কাজল চোখে টান
যে মেয়েটি গলা ছেড়ে গায় গান
হোক না বেসুরো, তবুও দিয়ে মন প্রাণ।
সেই একটি কন্যে, যে লেখে মনের কোণে,
আলপনা দেয় খাতার পাতায় নীল কলমের টানে।
সেই মেয়েটি খুব চেনা, তবুও অচেনা রয়ে যায়
যুদ্ধ শেষে , সব হারিয়ে তবুও বাঁচতে চায়।
বাঁচতে হবে যখন যেমন জীবন সুযোগ দেয়।
একটা দিন চলে যাওয়া? সব হারানো নয়।
সাপটে নিয়ে দিনগুলো সব চেটে পুটে খাই।
একটা জীবন, জানালা অনেক, খোলা হাওয়া চাই।
সেই মেয়েটি যেকোনো মেয়ে -সে, বা তুমি, আমি,
নিজের প্রতি ভালোবাসা, সে যে ভীষণ দামী।
দেবী এবং সেলফি
একদা হইলো ঝগড়া ভীষণ ডেলফি শহরে বসিয়া।
এথেনা কহিলেন ওগো দেব তুমি আছো অজ্ঞাত রহিয়া?
চমকিয়া কন দেবতা এপোলো এ কি কহিতেছ দেবী।
নিশ্চই দেব, ভাবিয়া দেখুন ভুল কি কহিলাম আমি।
চির যৌবনা, স্নিগ্ধ শোভিতা ,রূপবতী দেবী হইয়া
এ জীবন মোর বৃথাই রহিল সেলফি ব্যতীত হইয়া।
Wednesday, 5 July 2017
জঙ্গি
বাবা জঙ্গিরা দেখতে কেমন হয়?
তিন বছরের মেয়ের লাল টুকটুকে ঠোঁটে কঠিন প্রশ্ন বাবাকে বেশ বিব্রত করে। বাবা বলেন "মা , জঙ্গি রা আমাদের মতোই দেখতে, কিন্তু ওদের ইয়া বড় বড় দাড়ি থাকে, আর চোখ গুলো লাল, তোকে পেলে খেয়ে নেবে ওদের এত বড় হাঁ।ওরা শান্ত মানুষ কে মারে, মেরেই ফেলে" ছোট্ট মেয়েটি বাবার কথা শুনে চোখ বড় করে, তার ওই চোখ জঙ্গিদের চেহারার বিশালতা মাপার চেষ্টা করে। "আচ্ছা বাবা, তাহলে পাশের বাড়ির দাদুর ও তো অনেক বড় দাড়ি, আর কার্তিক কাকু রোজ বাড়ি ফেরে চোখ লাল হয়ে থাকে, গায়ে কি গন্ধ বিচ্ছিরি, তাহলে দাদু আর কাকু দুজনেই কি জঙ্গি"?হটাৎ এরকম প্রশ্নে বাবা হকচকিয়ে যান। "না মা, তা হবে কেন, ওরা তো ভালো লোক"।বাচ্ছা রা সব সময় যা শোনে তাকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে নিতে চায়।না পারলে কল্পনার হেঁসেলে হাত বাড়ায়। ফুল নামের মেয়েটিও তার ব্যতিক্রম নয়। "জানতো বাবা ঝুনু মেসো মাসি কে রোজ মারে, মাসি মা কে কেঁদে বলছিল। দেখো বাবা মাসি বড় হয়ে গেছে, দুস্টুমিও করেনা আমার মতো, তাও মেসো মারে,তাহলে মেসো ও জঙ্গি। " বাবা দেখলেন ভারী বিপদ হলো তো? একটু থেমে মেয়ের কোঁকড়ানো চুল ঘেঁটে পরম যত্নে মেয়ে কে বুকে বসায়। "কি জানতো মা, জঙ্গীরা যখন বোম ফাটায়, মানুষ মরে ওরা মন্ত্র বলে।" "কি মন্ত্র বাবা?" "যে মিন্ত্র দিয়ে কাউকে একদম ভ্যানিশ করে দেয়া যায়, সে আর কথা বলতে পারেনা, নড়তে ও না,তারার দেশে চলে যায়।" মেয়ে ভাবে তারার দেশ এ গিয়ে সবাই নিশ্চয় খুব কষ্টে থাকে। সে বাবাকে বলে "বাবা, তুমি দেখেছিলে কালিপুজোর সময় একটা লোক লোক গোট টাকে কি করলো,গত টা স্ট্যাচু হয়ে গেলো আর তার আগে একটা দাদু কি সব মন্ত্র বলছিল। তাহলে ওরাও জঙ্গী?
বাবা ভাবলেন বেশ মুশকিল হলো, এই মেয়ে এত পেকেছে। একে নিয়ে কি করা যায়। মেয়েকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসা স্থির করলেন। "চল মা ঘুরে আসি"। ঘরটা যাওয়ার নাম শুনে মেয়ে আনন্দে নেচে উঠলো। মেয়ের হাসিমুখ দেখে বাবা বললেন, "দ্যাখ মা , জঙ্গী রা হঠাৎ আক্রমণ করে দেয়, হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কেউ কাঁদলেও তাকে ছাড়েনা"।বলেই বাবা হালুম শব্দ করে কপট লাফানোর ভঙ্গিতে দুহাত থাবার মতো করে লাফালেন মেয়ের দিকে। মেয়ে কিন্তু একটুও চমকাল না। খিলখিল করে হেসে বলে উঠলো, "তাহলে বাবা ,তুমিই জঙ্গী।তুমি ঠাম্মাকে সেদিন কত্তোজোরে মেরেছিলে, ঠাম্মা কাঁদছিল,তাও তুমি মারছিলেই।"
Wednesday, 28 June 2017
ওয়াইফাই
প্রাক্তন প্রেমিকার সামনে বসে একদা প্রেমিক। ভাগ্য খারাপ ভিড় ট্রেন বলে কোথাও বিকল্প সিট নেই। বাঁচিয়ে দিয়েছে স্মার্ট ফোনের ইন্টারনেট। কিন্তু ওই যে বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যে হয়। চলন্ত ট্রেনে মাঝে2 নেট কেটে যায়।
প্রেমিকের অগত্যা ভরসা ওয়াই ফাই। যদি কেউ অন করে রাখে তো।সে ওয়াই ফাই অন করে সার্চ করে। পেয়েও যায় । প্রেমিকার ওয়াইফাই অন। বুকের মধ্যে রক্ত যেন বেশি মাত্রায় চলকে ওঠে প্রত্যাশা 90 লেখায়।বলা যায় ধুপ ধাপ। ওদিকে জানালার ধারে বসা প্রেমিকার চোখ আকাশের দিকে। বোঝা যাচ্ছেনা তাপ উত্তাপ এর বিক্রিয়া আদেও কিছু প্রক্রিয়া করছে কিনা।
প্রেমিক টি আড়চোখে তাকায়। ওয়াইফাই পেয়ে এদিকে ফেবু র মেসেজে জানান দিচ্ছে নতুন সম্পর্ক বেশ ভালো মতোই অক্সিজেন পেয়ে সচল।
নির্দিষ্ট স্টেশন আসে। প্রত্যাশা নেমে যায়। ওয়াইফাই ও কেটে যায়। আবার ইন্টারনেট সচল হয়।নতুন সম্পর্কে র নিরবিচ্ছিন্নতায় আকর্ষণ ক্রমশ বেড়েই চলে। ব্যস্ততার মাঝে, প্রচন্ড ভিড়ে হারিয়ে যেতে যেতেও দোলে ওঠে পুরোনো সম্পর্কের সুতো বাঁধা পুতুল।
কোনো মোবাইলে এ বেজে ওঠে
"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম"
Monday, 26 June 2017
হিসেব
লেগিংসের গায়ে নাছোড় কাদা, শার্টের কলারে চেপে বসা ঘামের দাগে লেবুর রসের মহিমা। অথবা খুশকিতেও। চুল গজাতে পিয়াঁজ এর রস। মাসের শেষে শ্যামপুর বোতলে জল ঢেলে কাজ চালিয়ে নেওয়া।
ট্রেনে বসে সেন্সক্সের খবরের পাশে কম খরচে
গোপন রোগ গোপনে সারার নির্ভেজাল প্রতিশ্রুতি।
সস্তার ফাঁকে পরকীয়া ,দায়হীন যৌনতা,
সপ্তাহান্তে বার ঠাকুর , আগস্টে দেশপ্রেম; মাঝে মাঝে ধর্মনিরপেক্ষতার ডিওডোরেন্ট
গায়ে মেখে নজরুল ,রবীন্দ্রনাথ। চৈত্র সেল অথবা মা শীতলা র ট্রাপিজ এ মনসার ঢাক।
শর্টকাটে দার্জিলিং জ্বলে, অনুভূতিতে আত্মঘাতী জেহাদ।
Sunday, 25 June 2017
অভিমান
অভিমান তবুও কমে কই?
এত কথা হয়ে গেছে, ক্ষমা
পরম ধর্ম জেনেও
অধর্ম কে আপন করে নিতে ভালো লাগে বেশ।
অধর্মের এত সুখ কেন?
যা নিজের মন থেকে চাওয়া যায়
বনাম সমাজ যা শেখাল
তার মাঝেই ধর্ম অধর্মের নো ম্যান্স ল্যান্ড।
আর ওই পতিত জমিতেই অভিমান ,রাগ , ক্ষোভ
জন্মে জল পেয়ে বেড়ে হয় আগাছার মতো।
আদর লাগে না, যত্ন চায় না।
তবুও বেড়ে ওঠে।
শব্দ'র মায়ায় জড়িও না,
অভিমান শব্দ চায় না কখনো।
Friday, 23 June 2017
রান্নাঘরের কবিতা
রোজ ই তো কবিতা লিখি।
যেইনা মাত্র আমি বললাম, তুমি তাকালে এমন ভাবে , মনে হলো
বাবা রাও জানতে পারলে এতটা চমকায় না যে তাদের
ছেলেরা কখন রাজনীতির রং পাল্টেছে।
এতটাই আশ্চর্য হলে যে শেষে কথা হারিয়ে বেঁকালে ঠোঁট।
আমি বললাম আমি কি লিখতে পারিনা?না হয় কবিতার বই এ আমি নেই। ছাপার অক্ষর আমার জন্য নয়। তা'বলে কি শুধু অক্ষরেই কবিতা লেখা যায়?
প্রতিদিন আট টায় স্কুলে যাওয়ার আগে সাজানো ভাতের থালা,ডাল সমেত দুটো পদ। গোছানো বাক্স
তোমার প্রিয়। বিদ্যালয়ে আমার হাতের নাম যে তোমার
কাছেই শোনা।
মাপমত সবজি , ফোরণ, তেল, নুন, মশলা ,আগুন
মিলিয়ে সময়ে সময়ে জলের ছিঁটে দিয়ে খুন্তির ঝনাত ঝনাত শব্দ উঠলে একফাঁকে কপালের ঘাম মুছে আবার বসে পরি ছুরি নিয়ে। মাপমত সব কিছুই হওয়া তোমার অলিখিত চাওয়া যে।
বলো, এটা কি কবিতা নয়?
Tuesday, 20 June 2017
To my unborn child...
I've not heard the voice
I ve not seen how would you ve cried.
Through the veins ,the blood that flows
Given you the heart beat and The whimper
Of bothered sigh.
I've dreamt so many things
To tied your hair with a string
Or to bake cake on a Saturday night
With the chocolate on the top
That I always lick like a greedy dog
And you too would like, likewise hoped.
Yes, it was yesterday's and the thing of
Past. The same blood that's called menstruation, was your life blood.
And every time , when I bleed i dare, i fear never.
With the twitch on my lips,
I tremble but make laughter.
But , now you re in my mind.
Yah , i fear , i do care.
Monday, 12 June 2017
মায়াবী
প্রতিবেশী কাকের দুটো ঠোঁটের মাঝে বেঁচে থাকার মায়া বাস করে।
সুপ্রাচীন গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকে পক্ষীশাবক,
নাভি ছেঁড়া বাচ্ছার মতোই তুলতুলে নরম।
এক ঝাঁক রাস্তা পাঁচমাথার মোড়ে হঠাৎ করে জট খুলে ফেলে।
বাঁধানো চৌকাঠে অস্পষ্ট লক্ষীর চরণ ছাপ, গৃহস্থ সিঁদুর , শাঁখের ফুঁ এ মিশে তুলসী গাছ বাঁচিয়ে রাখে।
মাঠ পেরোনো ছেলেটা হঠাৎ সন্ধ্যের মুখে ভয় পায়।
পয়লা বা সংক্রান্তি র মাস কাবারি হিসেব এর ফাঁকে
সত্যিগুলো কল্পনা হয়ে দৌড়ায় একটু শখের আদলে।
সমাধি র প্রান্তদেশে মৃতের গন্ধ থামিয়ে দেয় ঘড়ির কাঁটা।
মায়াবী সব ইচ্ছে ,ঘটনারা তোমার ,আমার, সবার হৃদয়ে তাঁত বোনে।
নিপুন উৎকন্ঠায় বেঁচে থাকার মায়া এ পৃথিবীর ছায়াকে আঁকড়ে ঘুমায়-
আগামীর আয়নায় স্তব্ধতা নেই,শিরায় জন্ম স্রোত বয়ে যায়।
যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়
হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...
-
আমি ভালো বা ভালো না - এইসব ভাবতে ভাবতে কেটে গেলো সহস্র বছর. মিশেছিলাম সীতা হয়ে মাটির কোষে। নিরুপায় জন্ম অতিক্রান্ত হচ্ছেনা। গলিপথ, র...
-
এক - অতঃপর মাঝরাত পেরিয়ে আরেকটা দিন এলো . না , তার ঘরে নয় , পিচ ঢালা রাস্তার ওপর আলো পড়ে , আর কিছু অতসী ফুল কে ছু...