Wednesday, 15 August 2018

ভরা বর্ষায়

পায়ে লাগা জল ছিটিয়ে ঘাসে মুছে নি বরং।
স্নানের বিন্দুরা অসম জলকণা।
বৃষ্টি স্নানের রেষারেষি শেষে ভিজে ঠোঁটের আবদার।
দেখো পড়ন্ত বিকেলে এভাবেই ভালোবাসবো।
ঠিক যেন সেই তিন প্রহর পেরোনো তেরছা চোখ
যেভাবে ধুয়ে নেয় সব অসমান ঝগড়া ঝাটি।
আমাদের বিকেল ,অঙ্কুরোদগমের
আশায় ,নখের খোঁচায় তোলা এক ঝাপটা ভিজেমাটি।

প্রতিশ্রুতি

বাস থেকে নামতে গিয়ে বাঁ পা টা একটু হোঁচট খেলো। সামলে নিলো সে। আজ সে স্কুটি নিয়ে আসেনি।কারণ ডাক্তার দেখানো। বেশ কিছুদিন ধরেই চিকিৎসা চলছে তার।এক গাদা হরমোন ওষুধ খাওয়ার নীট ফল চুল ওঠা, ঘুম ভাব হঠাৎ করে মাথা ঘুরে যাওয়া। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মা না হতে পেরে অগত্যা চিকিৎসকের শরণাপন্ন। ব্যাপারটা তার বা তার স্বামীর কাছে ততটা depressive নয় ,যতটা ভাবা হয়। তবুও সে কষ্টকর চিকিৎসা গুলো কেন যে নিচ্ছে তার সঠিক কারণ সে নিজেই বোঝেনা।
নার্সিং হোমের চেম্বার এ ডাক্তার এর জন্য অপেক্ষা।কাজের জায়গা থেকে ছুটির কিছুটা আগেই সে বেরিয়ে এসেছে। নার্সিংহোমের সামনে এসে তার চোখে পড়ে জটলা। একটা ট্রাক দাঁড়ানো। সঙ্গে2 সে বুঝে নেই যে কারুর আয়ুর রেশন কার্ড এর বরাদ্দ ফুরিয়েছে। ট্রাকে বডি তোলা হয়েছে , বেরিয়ে যাবে । ট্রাক স্টার্ট হতেই কেউ হরি ধ্বনি শুরু করে। কেউ একজন ছিটিয়ে দেয় সাদা খই। উড়ে উড়ে যায়।রেখে যাওয়া ,ফেলে যাওয়া পথের শেষ দান খেয়ে বাঁচে কাকের জীবন।

সে দেখে চলে যাওয়ার পথ, কাকদের উল্লাস , সমবেত হরি ধ্বনি। বুঝিবা মৃত্যুর ওপর ভর করেই জীবন দাঁড়িয়ে থাকে, বেঁচে থাকে ক্ষুধার আকুতি। প্রতিটা খই এর দানা মৃতের তরফে বাঁচার প্রতিশ্রুতি।

ফুলশয্যা

ফুলশয্যা

সপ্তম বিবাহবার্ষিকী। ধরিত্রী এলবাম নামিয়ে বিয়ের ছবি গুলো দেখছিল। প্রতিবার দেখে। কৃষ্ণ এখনো ফেরেনি কাজ থেকে। একটু দেরি হবে। রাতে একসাথে ডিনার করবে বলে আগে থেকেই টেবিল বুক করেছে।
এলবাম টা খুললেই কত ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমান হয়ে ওঠে। সাত পাক, অগ্নিসাক্ষী, সিঁদুর দান থেকে ফুল শয্যার খাটের ছবি শুধু দুজনের। এখনো তারা দু জন তিন জন হয়নি। ফ্রেমে বন্দি হয়নি কোনো নতুন নরম মুখ।
প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকী তে কৃষ্ণ নিয়ম করে ওকে সারপ্রাইস দেয়। সবসময় ওর চেষ্টা ও ভালো থাকুক।হাসি মুখে থাকুক। একের পর এক চেষ্টা যখন ধরিত্রী কে শক্ত করে তোলে, ওর হাসি মুখ ফেটে চৌচির হয়, কৃষ্ণ কিন্তু ঠিক বুঝে যায় কি ভাবে ভিজিয়ে দিতে হয় স্নেহের পরশে। অনেক খানি নিশ্চিন্ত, তবুও কি শান্তি মেলে? একবার ঘড়ির দিকে সে তাকায়।হ্যাঁ তাদের বিয়েটা ছিল গোধূলি লগ্নে।

ডিনার শেষে ঘরে ফিরে এলো ওরা।নাহ সারপ্রাইস কৃষ্ণ এখনো দিলোনা। মনের কোণে একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায়।তবে কি কৃষ্ণ...নাহ, কি জানি। ভেবে ও চুপ করে যায়। ঘুম না আসলেও নিয়ম মতো বিছানায় ও যায়। লাইট নিভিয়ে দেয়।কৃষ্ণ ড্রয়িং রুমে কি সব কাগজ নিয়ে বসেছে। ধরিত্রী জানে ওগুলো অফিসের দরকারি কাগজ। মনে হয় খুব দরকারি।না হলে সচরাচর ও অফিসের কাগজ বাড়িতে নিয়ে আসেনা।

ঘড়ির কাঁটা প্রায় পনে 12টা। কৃষ্ণ এসে বেডরুমের লাইট জ্বালায়। একটু বিরক্ত হয় ধরিত্রী। কিন্তু চুপ করে থাকে। কৃষ্ণ এসে গালে আলতো চুমু দেয় ওর। চোখ ঢেকে দিয়ে বলে সারপ্রাইস। চোখ খুললে দেখে একটা ফর্ম। একটা adoption agency র। কিছুটা দ্বিধা নিয়ে ধরিত্রী অস্ফুটে বলে নিজের তো আর নয়। কৃষ্ণ হোহো করে হাসে। বলে 'নিয়ম মতো কাগজ বানালে সেই baby টাও তোমার নিজের।'কিন্তু' 'না কোনো কিন্তু নয়, আমিই বা তোমার নিজের কে ছিলাম, রেজিস্ট্রি র কাগজ টা তে সাইন করেছিলাম বলেই না তোমার বাবা নিশ্চিন্তে আমার হাতে তোমার হাত টা তুলে দিয়েছিল।পাগল একটা'।
কৃষ্ণ এই কথা বলে ওকে জড়িয়ে ধরে। ও কেঁপে ওঠে। কি সহজে কৃষ্ণ বুঝিয়ে দেয় আপন বলে কেউ হয়না,আপন করে নিতে হয়, নিতে জানতে হয়। এই জন্যই সে সখা, স্বামী বা তার ও বেশি কিছু মনে হয়।

জীবনের নিশ্চিন্ত ফুলশয্যা বোধ হয় তার জীবনে আজই আলিঙ্গন করে যায়।

Thursday, 1 February 2018

টিশার্ট

এক এক টা ভালোবাসা  রোদে মেলে দি।
ক্লিপ আটকে দি, এলোমেলো হাওয়া যাতে উড়িয়ে না নেয়।
ভেসে থাকে হাওয়ায়, এদিক ওদিক ।
বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে শুকনো কাপড় তুলে নিয়ে আসার সময় দেখি পড়ন্ত রোদে তোমার
টিশার্ট শুকিয়েছে।তবে কলারের কাছে আধ ভেজা।
সেখানে এখনো মিশে সাবানের গন্ধের সাথে ডিওডোরেন্ট।
তখন হয়তো তুমি ট্রেনে, ঘুম চোখে নেমে আসে বিকেলের ছায়া।
ক্লান্ত শরীর কে টেনে নিয়ে যাও ল্যাব এ।
বিশ্বাস করো ওই ভেজা গন্ধের আদরে কেটে যায়
ছটা দিন।
আলমারি থেকে জামাকাপড় নামাই তোমার। অনেক গুলো রান্নার মাঝে খুব তাড়াতাড়ি।
ধোয়া কাপড়ে আবার মিশবে তোমার ঘাম, ডিও।

যা রেখে যাও তুমি প্রতিবার ।
আমাকে যা প্রেমিকা করে রাখে তোমার অপেক্ষার।

Saturday, 23 December 2017

অভ্যন্তরে

sabornichakraborty.blogspot.com/in

কিছু পথ দূরে হেঁটে যায়।
জানা কিছু শেষ হয় গলির মোড়ে।
মাথা নিচু করে যে পথ লুকিয়েছে
গভীর কোথাও, সে পথে অনেক গল্প
লুকিয়ে;চোখের আড়ালে বাঁচে অনুভব।
আমার একলা জানালায়
তার নিত্য আনাগোনায় পথে
ধুলো জমেনি কোথাও।
শুধু চলে গেছে 10 টা বছর।
আমার আর তার, সেই বিস্মৃত
আগস্টের বিকেলে দুচাকার হাইওয়ে।
অভ্যন্তরের ছায়াপথ।

Monday, 27 November 2017

তখন - এখন

দরজায় এখন আর কেউ কড়া নাড়ে না।
আসলে কড়া এখন রাখা দস্তুর নয়।
ডোর বেল বাজে, ভিতরে লোক আছে নাকি
তালা সে যখন বোঝার উপায় নেই, তখন অপেক্ষা
করেই দেখা যাক।

সিঁড়ির ভাঁজে পায়ের শব্দ শুনলে অপেক্ষায় কেউ
কান পাতেনা। কোথায় কে সব জানে গুগুল, অদৃশ্য কাঁপা তরঙ্গে জানায় যেসব বন্ধুরা খুব কাছে
তাদের হাত ঈশারায় ডাকা যাক।

চিঠি র অপেক্ষা পেন ফ্রেন্ড ,সদ্য কৈশোর পিওন এর সাইকেল এ ক্রিং ক্রিং শোনেনি। মেসেঞ্জার এর
পিং এর মত আওয়াজ কি?ধারণা নেই।
চিঠি কমনীয় উষ্ণতা ভোলা যাক।

Sunday, 26 November 2017

সময় ফুরাচ্ছে দ্রুত

কত কিছু যে করার বাকী।
দিন ফুরিয়ে যাওয়ার আগে
সব কাজ শেষ করে ফেলার টার্গেট নিয়ে এগোতে দেখি বেলা শেষ হয়ে এলো, তবুও এগোতে পারিনি একচুলও। সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। অর্থহীন জীবন তবুও মরুভূমি হয়নি।
স্বপ্ন দেখার অভ্যেসে প্রতিদিন জল পাচ্ছে সময়।
তীব্র ,ভীষণ তীব্র একটা ছটফটানি কামড়াচ্ছে ঘিলু।
পাপবোধ নাকি অমেরুদন্ডী সহনীয়তা অন্দরের মানুষ টাকে শেষ করছে রোজ?
এখন এই বোধ ঘিরে ধরে-
আমি কী, অথবা কেন?

Sunday, 19 November 2017

মন খারাপ কে

মন খারাপ-তুই দূরে থাক।
একটা হিংসুটে দুস্টু পাজি বজ্জাত।
নিজের কোনো রং নেই।
আমার আছে অনেক রং
লাল হলুদ কমলা বেগুনি
আসমানি নীল রামধনু একঝুড়ি।
মাঝে মাঝে কেড়ে নিতে, চুরি করতে
তুই চলে আসিস নির্লজ্জ।

অনেকগুলো সময় পুড়িয়ে মন খারাপ
তুই ভাবেছিলিস রং আমার শেষ।
কিন্তু কতটা ভুল তুই নিজেই ভাবিস বল?
নাহলে দেখ যেই আমি তুলি ধরলাম তুই
ঢাকলি মুখ, যেই আমি নিজেকে সাজালাম
তুই পিছিয়ে গেলি কয়েক পা।
এখন আমি আঁচড় কাটতে শিখেছি।
বেসুরো গলায় গলা সাধার পর থেকে
তুই বেপাত্তা। এলোমেলো নাচ শুরু করতেই
পায়ে লাগলো মোচড়। সেই দেখে তোর কি
হাসি, ভাবখানা এমন যেন বেশ হয়েছে, এবার
ব্যথার সাথে আমি বসবো জাঁকিয়ে।

আরে হিংসুটি তুই জানিস না।
সৃষ্টির রং ধুয়ে দেয় তোর কালিমা, অগোচরে তোরই।

Thursday, 16 November 2017

শিশু দিবসে নিজেকে

বয়স বাড়ছে চুলে পাক।
সমাজ বলছে গম্ভীর থাক।
মা বলছে হয়েছ বড়।
বকবক টা কমাও আরও।
পেশার দাবী বিজ্ঞ হও।
টাকা বলছে হিসেবি হও।
সংসার চায় সব কিছুই
সময় , শরীর যা আছে তাই।

হয়েছি বড় অনেক জ্বালা
বিরক্তি আর রাগ মেশাই।
তবুও কিন্তু ফিক ফিক ফিক
হাসছি দেখো বাচ্চা তাই।

Saturday, 30 September 2017

অনুসন্ধান


এই যে দেখছ কত সহজে তেতো র থেকেও ভয়ানক ঘটনা ভাতের থালায় চটকে গিলে ফেললে।
আবার শুনে অম্বল হলেও জোয়ান আদার আরকে দিব্বি তো হজম করে ফেললে আধ্যাত্নিক খুন -ধর্ষণ।
গরম তেলের মধ্যে জল পড়লে চিড় চিড় আওয়াজে হলুদ ফেলে দাও একটু। আওয়াজ থেমে যাবে।

কিন্তু মাঝরাতে ভুখা পেটা নেড়ি কুকুর রা ঠিক চিৎকার করবে, অচেনা কেউ পাড়ার গলিতে মুখ ঢোকালে।
সে তুমি কুকুর , কুত্তা যাই বলো,সারমেয় র নিশ্চিত স্বর্গপ্রাপ্তি তো আটকাতে পারবেনা। তোমার ঘুম ভাঙবে, অবশ চোখ না খুলেই পাশ ফিরে আবার ততোধিক গভীর নিদ্রায়।

ওই লালু ভুলু কালু থামতে শিখেনি , ওদের যাত্রা পথ
গলিপথ পেরিয়ে মুক্তি খোঁজে ।
যুধিষ্ঠির ও নরক দেখেছিলেন, এখনো সবাই দেখে মাছের চোখ নিয়ে।

ধার্মিক শীৎকার চাপা পড়ার পর, পাড়ার কুকুর জেগে থাকে-বোধহয় ছায়াপথে স্বর্গ খোঁজে।

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...