Monday, 12 June 2017

মায়াবী

প্রতিবেশী কাকের দুটো ঠোঁটের মাঝে বেঁচে থাকার মায়া বাস করে।
সুপ্রাচীন গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকে পক্ষীশাবক,
নাভি ছেঁড়া বাচ্ছার মতোই তুলতুলে নরম।
এক ঝাঁক রাস্তা পাঁচমাথার মোড়ে হঠাৎ করে জট খুলে ফেলে।
বাঁধানো চৌকাঠে অস্পষ্ট লক্ষীর চরণ ছাপ, গৃহস্থ সিঁদুর , শাঁখের ফুঁ এ মিশে তুলসী গাছ বাঁচিয়ে রাখে।
মাঠ পেরোনো ছেলেটা হঠাৎ সন্ধ্যের মুখে ভয় পায়।
পয়লা বা সংক্রান্তি র মাস কাবারি হিসেব এর ফাঁকে
সত্যিগুলো কল্পনা হয়ে দৌড়ায় একটু শখের আদলে।
সমাধি র প্রান্তদেশে মৃতের গন্ধ থামিয়ে দেয় ঘড়ির কাঁটা।

মায়াবী সব ইচ্ছে ,ঘটনারা তোমার ,আমার, সবার হৃদয়ে তাঁত বোনে।
নিপুন উৎকন্ঠায় বেঁচে থাকার মায়া এ পৃথিবীর ছায়াকে আঁকড়ে ঘুমায়-
আগামীর আয়নায় স্তব্ধতা নেই,শিরায় জন্ম স্রোত বয়ে যায়।

মায়াবী

প্রতিবেশী কাকের দুটো ঠোঁটের মাঝে বেঁচে থাকার মায়া বাস করে।
সুপ্রাচীন গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকে পক্ষীশাবক,
নাভি ছেঁড়া বাচ্ছার মতোই তুলতুলে নরম।
এক ঝাঁক রাস্তা পাঁচমাথার মোড়ে হঠাৎ করে জট খুলে ফেলে।
বাঁধানো চৌকাঠে অস্পষ্ট লক্ষীর চরণ ছাপ, গৃহস্থ সিঁদুর , শাঁখের ফুঁ এ মিশে তুলসী গাছ বাঁচিয়ে রাখে।
মাঠ পেরোনো ছেলেটা হঠাৎ সন্ধ্যের মুখে ভয় পায়।
পয়লা বা সংক্রান্তি র মাস কাবারি হিসেব এর ফাঁকে
সত্যিগুলো কল্পনা হয়ে দৌড়ায় একটু শখের আদলে।
সমাধি র প্রান্তদেশে মৃতের গন্ধ থামিয়ে দেয় ঘড়ির কাঁটা।

মায়াবী সব ইচ্ছে ,ঘটনারা তোমার ,আমার, সবার হৃদয়ে তাঁত বোনে।
নিপুন উৎকন্ঠায় বেঁচে থাকার মায়া এ পৃথিবীর ছায়াকে আঁকড়ে ঘুমায়-
আগামীর আয়নায় স্তব্ধতা নেই,শিরায় জন্ম স্রোত বয়ে যায়।

Saturday, 10 June 2017

আলাদা নয়

বরফেও আগুন লাগে।
নিঃশব্দে মাতৃগর্ভে নাড়ি বেয়ে
অপরিণত ভ্রুনের জমাট বাঁধা
রক্তের মতোই আগুন ধেয়ে আসে।
লাভা স্রোত আর রক্ত মিলে মিশে যায়।
কিছু প্রাণ পোড়ে, কোথাও বা আগুন
ঢাকে ছাই।

Thursday, 8 June 2017

প্রয়োজনীয়

চায়ের কাপে কতটা চিনি দেবে না আদেও দেবেনা সেটা তোমার ইচ্ছে।
তবে কিছু টা আদর মিশিও উষ্ণতার সাথে।
কফি ব্ল্যাক তোমার ভালো লাগে ,আমার অবশ্য কেমন যেন টিতকুটি স্বাদ পোষায় না।
তবে বেশ খানিকটা তর্ক হবে এই মাপ রেখে মগ ভোরো।
ভারী ভারী সব চিন্তাগুলো কে যেভাবে ঠিক বইয়ের পাতায় তুমি জুড়ে দাও, আর পডিয়াম জুড়ে গমগম করে বেজে যায় তোমার ভরাট স্বর।
তার কিছুটা আমার জলের গ্লাসে মিশিয়ে রেখো।
এক নিঃশ্বাসে ,হাঁসফাঁসে গিলে ফেলবো ঠিক বাঁচার জন্য।
এই ভাবে সবকিছুই জড়িয়ে থেকো  তুমিও।

Tuesday, 6 June 2017

আমেন

পাশাপাশি চলা ফুরায় না।
শেষ বিকেলে ঘর ফেরতা পাখি গুলোর মতোই ঝগড়া করে আবার কোমর ধরে হেঁটে চলা।
একই বাসায় ফিরতে হবে নিয়ম মতো।
জীবনের অনেক গুলো চিহ্ন থাকে। ভালোবাসা, অপমান ,রাগ উপেক্ষার। সুগভীর ক্ষত হৃদয় জুড়ে থাকে,রাস্তা ঘাটে জল জমা খানা খন্দের মতো।
মৃতপ্রায় আয়নায় মুখের জরিপ এঁকে বেঁকে যায়।
পৃথিবীর ভরবেগ এ পাল্লা দিয়ে দৌড়ায় আমি তুমি
আমাদের অবসাদ। ছুঁয়ে ফেলবে বুকসমান জল, আঁজলা ভরে নেবে গান, ধুয়ে নিতে দালির ঘড়ি।
আগুনে কান রেখে সত্যি জানতে গিয়ে রিক্ত।
এ শরীর মাটি পাবে, জলের কিনারে। শতজীর্ণ
শ্লোকে মুক্তির আমেজে নোনতা দিগন্তে মিলিয়ে যাবে কোনো একদিন।
সেদিনও কোনো ভ্রুন নালী ছিঁড়ে শেষ হবে।চড়া ফ্লুরোসেনটের তলায়।

না- মানুষ মাটি পাবেনা কখনো।

Friday, 2 June 2017

নিজেকে ভালোবাসো

এক পশলা বৃষ্টির গন্ধ মেখে দেখো
সারা রাত কাঁদার পর।
ভোরের আলো ফুটলে ক্লান্ত পা ফেলে
হেঁটে নিয়ো ঘাসে।
অথবা খুব চেনা জানালায়
দেখে নিয়ো বরফি কাটা আকাশ।
রান্না ঘরের কোনায় রাখা নুন তেল শিশির
মশলার কৌটো লঙ্কা আদার ঝাঁজে
তুমি যে আগুনে প্রতিদিন শিল্প তৈরি করো
পেটের দাবানল নেভাতে,
সেই আগুন তুলে রাখো একদিন প্লিজ ।
শুকনো খটখটে রংতুলির বাক্স  না হয় ভিজিয়ে নিলে
ছাদের কলে।
তারপর কেটে ফেললে আঁচড় , মূল্যহীন
কিন্তু জট পাকানো মনের মতোই তা সত্যি ভীষণ।

মাঝে মাঝে  ডাকো।
না রবীন্দ্রনাথ কে নয়, বরং বেগম আখতার
যে জোছনা কে আড়ি করে দিয়েছিল।
আবার ভাব করে নাও না ।
পুরোনো আঁতাত গুলো যতটা পারো ঝালিয়ে নাও।

তারপর নিজেকে ভালোবেসে দেখো।
বিশ্বাস করো আরো কিছুদিন পেরিয়ে যাবে বেঁচে থেকে

মানুষের মতো।

উর্বরতা অথবা উন্নতি

তুমি প্রমান দিয়েছো অত্যাচার উর্বর  ভীষণ।
একেক করে মাঠ নদী আকাশ কে
বন্দি করার পর কি অত্যাচার টাই না করেছ।
বাঁধ দিলে, জমির বুক চিরে গুঁজে দিলে বীজ।
আকাশের সীমানা পেরিয়ে সাদা বাগানে যেদিন
উদ্ধত রকেট তোমার পৌরুষের সাক্ষী হলো
তুমি হাসলে।

কথা দিয়েছিলে , শব্দের শিকলের বেড়ি পরিয়ে
পেয়েছিলে উপত্যকা; সবুজ , নরম তুলতুলে ঘাস,
হাতপা ছড়ানো গাছের ফাঁকে টুপটাপ শিশির পড়তো।
এখন আছে কিছু , নেই অনেকটাই,।
তোমার সভ্যতার রুচিবোধ সেজেছে নতুন ডিজাইন এ।
উপত্যকা র ক্ষত বেড়েছে।
আসলে সব গাছের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ক্রুশ এর ছায়া।
প্রকৃতি তবুও জেসাস হতে পারলো কই?

Sunday, 14 May 2017

মায়ের গল্প


একবার লক্ষী ঠাকুর তার পেঁচা কে একটা মুক্তোর মালা দিয়ে বললেন "পেঁচা তোর চোখে যে সব থেকে সুন্দর তুই এটা তাকে পরিয়ে দিবি"।
পেঁচার তো মহা আনন্দ।এ আবার এমন কি কঠিন কাজ।এক দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলব।পেঁচা ভাবলো মনে2।

এরপর পেঁচা তার যাত্রা শুরু করলো। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ঘুরলো।কিন্তু কাউকেই তার ঠিক সুন্দর বলে মনে হচ্ছেনা। পেঁচা ভাবলো মহা বিড়ম্বনা তো।কি করা যায়। এই নিয়ে পেঁচা যখন বিস্তর চিন্তা মগ্ন হঠাৎ ওর মনে পড়েছে ওর ছানা কে ও ফেলে রেখে এসেছে ,দেখার কেউ নেই।

পড়িমরি করে পেঁচা ছুটলো তার ছানা কে দেখতে।এসে দেখলো ছানা না খেতে পেয়ে কাঁদছে।পেঁচা সঙ্গে সঙ্গে খাবার জোগাড় করে নিয়ে এসে ছানার মুখে তুলে দিল। পেটভরে গেলে ছানার মুখে ফুটলো তৃপ্তির হাসি।

তখন পেঁচার মনে হলো তার ছানার সেই হাসির থেকে পৃথিবীতে আর এর বেশী কোনো সুন্দর কিছু নেই।

তাই শেষমেশ সেই মুক্তোর মালা তার বাছার গলায় পরিয়ে বললো

"আমার ও সোনা ,চাঁদের ও কণা, ভুবনে তুলনা নাই রে।"

Monday, 8 May 2017

এপার ওপার

বড়ো  হাসপাতালের কাঁচ ঢাকা জানালার ফাঁক গলে বাসা বাঁধে পায়রা।
বন্ধ জানালার হিমায়িত শীতের ওপাড়ে দুই শালিখ বসে
ঠুকে দেয় কাঁচ।

এদিকে বেডে চলে রক্ত ,অক্সিজেন, স্যালাইন।
অবশ শরীরে জ্ঞান নামে ফোঁটায় ফোঁটায়।
মুখে মাস্ক,চোখে ঘোর ,সময় পেরোয় গলি পেরোনো
বিড়ালের মতো।
ইশারা ভাষা হয়ে জানে যা যা হারিয়েছে কেউ।

বিকেল আসে,কাল তোমার ছুটি বলে কেউ।

কিছু বিচ্ছেদ উদ্বেগ ওষুধ ইনজেকশন এর ঝাঁজেও
ঘর বাঁধে শালিখ চড়াই।
সাদা চাদর এর জমাট ঠান্ডা মুক্তি খোঁজে ওদিকের আকাশে।

জিওন কাঠি কেবল রাধাচূড়া ফুল।

Monday, 17 April 2017

পথ

নিস্পন্দ জাহাজ দাঁড়ালো বন্দরে।
কাঁপলো জল, কক্ষপথ ছেড়ে তরঙ্গ
অনিয়ত।নির্দিস্ট লক্ষ্যে কম্পাস।
মাজেলান অনির্দিষ্ট পথ পেরিয়েছিলেন।
যা ছিল ছায়াপথ কল্পনার।

উঠের পায়ের ছাপ মরু ছাড়িয়ে
কখন যে চলে এসেছিল পর্বত ডিঙিয়ে।
মুসাফির বা কাবুলি রাহেমত রা বীন আর বিনিময়ের
সুর মাপতে অথবা সুদের হিসেব শেষে
পেয়েছিলো মাটি;অচেনা দেশের মাটি একটু
বেশি ভিজে এই যা ।

রেশমী পথ বেয়ে কারা এনেছিল
বসন আভূষণ,তাদের নাম লেখা নেই
কিন্তু এসেছিলো অনেকে।আতর, কাঁচ , রেশম, পশম,
মশলা মাখা গন্ধ লেগে আছে বইয়ের পাতায়।
ইতিহাসের অলিন্দে বদ্ধ বাতাস ভারী হয়ে যায়।

ইতিহাস, সাহিত্য, বিকিকিনি,
আলো অন্ধকার ব্যাকগ্রাউন্ড এ অমসৃণ ঢাল বেয়ে
পথ খুঁজে দেয় নতুন মোড়,
ফা হিএন তাই আজও রাস্তায়।

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...