Friday, 2 June 2017

উর্বরতা অথবা উন্নতি

তুমি প্রমান দিয়েছো অত্যাচার উর্বর  ভীষণ।
একেক করে মাঠ নদী আকাশ কে
বন্দি করার পর কি অত্যাচার টাই না করেছ।
বাঁধ দিলে, জমির বুক চিরে গুঁজে দিলে বীজ।
আকাশের সীমানা পেরিয়ে সাদা বাগানে যেদিন
উদ্ধত রকেট তোমার পৌরুষের সাক্ষী হলো
তুমি হাসলে।

কথা দিয়েছিলে , শব্দের শিকলের বেড়ি পরিয়ে
পেয়েছিলে উপত্যকা; সবুজ , নরম তুলতুলে ঘাস,
হাতপা ছড়ানো গাছের ফাঁকে টুপটাপ শিশির পড়তো।
এখন আছে কিছু , নেই অনেকটাই,।
তোমার সভ্যতার রুচিবোধ সেজেছে নতুন ডিজাইন এ।
উপত্যকা র ক্ষত বেড়েছে।
আসলে সব গাছের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ক্রুশ এর ছায়া।
প্রকৃতি তবুও জেসাস হতে পারলো কই?

Sunday, 14 May 2017

মায়ের গল্প


একবার লক্ষী ঠাকুর তার পেঁচা কে একটা মুক্তোর মালা দিয়ে বললেন "পেঁচা তোর চোখে যে সব থেকে সুন্দর তুই এটা তাকে পরিয়ে দিবি"।
পেঁচার তো মহা আনন্দ।এ আবার এমন কি কঠিন কাজ।এক দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলব।পেঁচা ভাবলো মনে2।

এরপর পেঁচা তার যাত্রা শুরু করলো। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ঘুরলো।কিন্তু কাউকেই তার ঠিক সুন্দর বলে মনে হচ্ছেনা। পেঁচা ভাবলো মহা বিড়ম্বনা তো।কি করা যায়। এই নিয়ে পেঁচা যখন বিস্তর চিন্তা মগ্ন হঠাৎ ওর মনে পড়েছে ওর ছানা কে ও ফেলে রেখে এসেছে ,দেখার কেউ নেই।

পড়িমরি করে পেঁচা ছুটলো তার ছানা কে দেখতে।এসে দেখলো ছানা না খেতে পেয়ে কাঁদছে।পেঁচা সঙ্গে সঙ্গে খাবার জোগাড় করে নিয়ে এসে ছানার মুখে তুলে দিল। পেটভরে গেলে ছানার মুখে ফুটলো তৃপ্তির হাসি।

তখন পেঁচার মনে হলো তার ছানার সেই হাসির থেকে পৃথিবীতে আর এর বেশী কোনো সুন্দর কিছু নেই।

তাই শেষমেশ সেই মুক্তোর মালা তার বাছার গলায় পরিয়ে বললো

"আমার ও সোনা ,চাঁদের ও কণা, ভুবনে তুলনা নাই রে।"

Monday, 8 May 2017

এপার ওপার

বড়ো  হাসপাতালের কাঁচ ঢাকা জানালার ফাঁক গলে বাসা বাঁধে পায়রা।
বন্ধ জানালার হিমায়িত শীতের ওপাড়ে দুই শালিখ বসে
ঠুকে দেয় কাঁচ।

এদিকে বেডে চলে রক্ত ,অক্সিজেন, স্যালাইন।
অবশ শরীরে জ্ঞান নামে ফোঁটায় ফোঁটায়।
মুখে মাস্ক,চোখে ঘোর ,সময় পেরোয় গলি পেরোনো
বিড়ালের মতো।
ইশারা ভাষা হয়ে জানে যা যা হারিয়েছে কেউ।

বিকেল আসে,কাল তোমার ছুটি বলে কেউ।

কিছু বিচ্ছেদ উদ্বেগ ওষুধ ইনজেকশন এর ঝাঁজেও
ঘর বাঁধে শালিখ চড়াই।
সাদা চাদর এর জমাট ঠান্ডা মুক্তি খোঁজে ওদিকের আকাশে।

জিওন কাঠি কেবল রাধাচূড়া ফুল।

Monday, 17 April 2017

পথ

নিস্পন্দ জাহাজ দাঁড়ালো বন্দরে।
কাঁপলো জল, কক্ষপথ ছেড়ে তরঙ্গ
অনিয়ত।নির্দিস্ট লক্ষ্যে কম্পাস।
মাজেলান অনির্দিষ্ট পথ পেরিয়েছিলেন।
যা ছিল ছায়াপথ কল্পনার।

উঠের পায়ের ছাপ মরু ছাড়িয়ে
কখন যে চলে এসেছিল পর্বত ডিঙিয়ে।
মুসাফির বা কাবুলি রাহেমত রা বীন আর বিনিময়ের
সুর মাপতে অথবা সুদের হিসেব শেষে
পেয়েছিলো মাটি;অচেনা দেশের মাটি একটু
বেশি ভিজে এই যা ।

রেশমী পথ বেয়ে কারা এনেছিল
বসন আভূষণ,তাদের নাম লেখা নেই
কিন্তু এসেছিলো অনেকে।আতর, কাঁচ , রেশম, পশম,
মশলা মাখা গন্ধ লেগে আছে বইয়ের পাতায়।
ইতিহাসের অলিন্দে বদ্ধ বাতাস ভারী হয়ে যায়।

ইতিহাস, সাহিত্য, বিকিকিনি,
আলো অন্ধকার ব্যাকগ্রাউন্ড এ অমসৃণ ঢাল বেয়ে
পথ খুঁজে দেয় নতুন মোড়,
ফা হিএন তাই আজও রাস্তায়।

Tuesday, 4 April 2017

দেখা


এ পৃথিবীর মায়া যত বাড়ে
দেখার ইচ্ছেরা ততটাই বেড়ে ওঠে।
কিন্তু দৃষ্টি বড্ডো ভারী হয়ে আসে।
একসময় পর্দা ফেলে দেয় শরীর
দেখতে দেবেনা বলে।
চোখের বোঝা বাড়ে;
যোগ বিয়োগের অংকে নিরুদ্দিষ্ট দৃষ্টি
পথ খুঁজে পায়।

বন্ধ হওয়ার আগে
কিছু ঘ্রাণ খুঁজে নেয় চোখ।
সেইসব দৃষ্টিরা ছবি হয়
অথবা কবিতা বীতশোক।

Monday, 3 April 2017

রাইস স্যুপ

তারপর এক চিমটে বিট নুন দিলে স্বাদ খুলবে আরও।সঙ্গে যদি পাও গোলমরিচ গুঁড়ো তাহলে তো কথাই নেই।
জমে যাবে ডিনার।ওজন কমবে দ্রুত।
থাকবে স্লিম , তন্বী আরো।

একবাটি ভাতের ফ্যান রোজ ফেলা যায়।
জমে জমে ড্রেন বন্ধ হয়।

রাইস স্যুপ হয় নাকি?
কেউ খায়?কৈ জানিনাতো।

Saturday, 1 April 2017

সভ্যতার মূল্য

আজ শেষ পিরিয়ড এ এইট এ ছিলাম।ঘুলঘুলি তে চড়াই দম্পতি বাসা করেছে বেশ কিছুদিন।ডিম পেড়েছে বোধহয়।ভালোই লাগে ক্লাসের মাঝে ওদের কিছমিচ।
তা আজ যখন পড়াচ্ছিলাম ভীষণ গরমের জন্য জানালা বব্ধ ছিল।দরজাও।হঠাৎ চোখের নিমেষে স্বামী চড়াই ফ্যান এর ব্লেডে ধাক্কা খেয়ে শেষ হয়ে গেলো কিচ্ছু বোঝবার আগেই।
যাইহোক মন ভীষণ খারাপ ।পড়ানোর সময়ে মন বসাতে পারছিলাম না।অবাক হলাম এরপর।স্ত্রী চড়াই পাখিটি বারবার বাসার কাছে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর অস্থির হয়ে আছে। এদিক ওদিক ওড়াউড়ি শুরু করেছে। সেই অভিশপ্ত ফ্যান এর কাছে বারবার যাচ্ছে।বাধ্য হয়েই ফ্যান বব্ধ  করলাম এতো গরম থাকলেও।
কিন্তু পাখিটার উদ্ভ্রান্ত অবস্থাটা গেলোনা।একবার বাসায় যায় আরেকবার বাইরে।খুঁজেই চলেছে...

বুঝলাম সভ্যতার দাম খুব কম নয় কিছু।

Thursday, 23 March 2017

প্রলেপ

আমার অতীত জানে কতটা গভীর ক্ষত।
প্রলেপ দিয়ে রাখা ঘা সময়ের সাথে শুকিয়েছে।
একটা দাগ জুড়ে গেছে ।নিরুদ্দিষ্ট এর সন্ধানে
কাজে লাগতে পারে যদি কেউ খোঁজে।
ব্যাথা গুলো মনে করিনা।
আমার সন্তান  প্রশ্ন করেছে
মা তোমার হাতের দাগ টা কি?
সত্যি বলতে পারিনি ওকে  রোজ পড়াচ্ছি যদিও
সদা সত্যি বলিও।
ভয় পাচ্ছি কোথাও
সত্যি টা জেনে বললে পরেই ও কি বাঁচবে আদেও?
কিছু সত্যি ভীষণ সত্য ,থাকা ভালো গোপনেই।
বাজারি সত্য ভীষণ গরম সেঁকে নি সকলেই।

থাক তবে থাক গোপন সত্য গোপন মনের কোণে।
হাতের দাগ পরিচয় পাক পোড়া চিহ্ন বলে।
দাগ শুধু দাগ যে নয় আমি কেবল জানি
দেশভাগের পর বাঙাল ভয়াল বিপদ বড়োই মানি।
বোঝা বাড়ালো , ভাগ বসালো নতুন দেশের মাঝে

দাগ টা কিন্তু প্রশ্ন করে বেমক্কাই কোন সুখে কিছু মানুষ
উদ্বাস্তু সাজে?

Monday, 13 March 2017

প্রতিশ্রুতি -যা কিছু পেতে পারি

যুদ্ধ থামার পর টি শার্টে লিখে দেবো
আলগা পেন্সিলের
স্কেচে নিঃশর্ত ঢেউয়ের আভাস।
আকাশ কে পনবন্দী করতে
পেরে  রাজসাজে যুদ্ধ
জয় করে ফেলার পরমুহূর্তেই
অদৃশ্য করে দেবো মনগড়া ইতিহাস।

পথ ভুলে যেতে পারো তুমি অযথাই
যদিও মনে করিয়ে দেবে ছায়াপথের
আবছা আভাস। মায়াবী লেনদেন
ফুরালে কাগজের টুকরো পোড়ে।
কর্পোরেশনের বোঝা বাড়ায়
বেঁচে থাকার নিঃশ্বাস।

পর্দারা ভেজে , ভারী হয় বাতাস।
জলরঙে এঁকে দিতে অন্তর্লীন
সমুদ্রের বালিমাখা রোদ একরাশ।

Sunday, 12 March 2017

আরেক বসন্তে

ঝুপসি চাঁদ রং মাখে না।
আবির ছড়ায়।
আগত বসন্ত যেমন প্রেম দেয়,
নতুন পাতার বর্ণ কবিতার খাতায়।

তেমন ই ফুরোয় না কোনো কিছুই,
শুধুই অপেক্ষায়...

যাঁরা হঠাত করেই খাওয়াতে চায়

  হাঁটু মুড়ে বসো, মুড়িমাখা হাতে দেবো- ঝাল মুড়ি। চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে সাথে আচারের টুকরো আম। পা ছড়িয়ে বসো তারপর, মেলে দাও গল্পের শাড়ি। অবাক বিস্...